অর্থ সম্পর্কীয় মৌলিক ইবাদতের নাম জাকাত।
সাওম ব্যক্তিকে সব অন্যায় থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে আদর্শ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে। একটি আদর্শ সমাজের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো অন্যায় ও বিশৃঙ্খলামুক্ত সমাজব্যবস্থা। সাওম ব্যক্তিকে মিথ্যাচার, হিংসা- বিদ্বেষ, ঝগড়া, অশ্লীলতা, পরনিন্দা প্রভৃতি পাপাচার থেকে দূরে রাখে। ফলে সমাজ থেকে অন্যায় দূরীভূত হয়। সমাজে গড়ে ওঠে একদল আদর্শ লোক। তারা একটি কাঙ্ক্ষিত আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন।
উদ্দীপকের হজের সামাজিক গুরত্বের প্রতিফলন দৃশ্যমান। হজের সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম। হজের মাধ্যমে সারা বিশ্বের মুসলমানদের মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ফলে বিভিন্ন জাতি, বর্ণের মুসলমানদের মধ্যে সামাজিক মিথস্ক্রিয়া ঘটে। এর মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় হয়। উদ্দীপকে এরূপ দৃশ্যপটই অঙ্কিত হয়েছে। সাদ্দাম হোসেন হজে গিয়ে হজের সামাজিক গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছেন। তিনি সারা বিশ্বের মুসলমানদের অদৃশ্য এক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হতে দেখেছেন। অথচ তাদের গায়ের রং, ভাষা ও সংস্কৃতিতে যোজন যোজন ব্যবধান। মূলত এটিই হজের সামাজিক গুরত্বের প্রতিফলন। হজ এভাবেই বিশ্ব মুসলিমের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা করে। দীর্ঘদিন নিঃস্বার্থ ও আন্তরিক চিত্তে তারা পাশাপাশি অবস্থান করে। এক অভিন্ন লক্ষ্যে পবিত্রতম পরিবেশে তারা আল্লাহর কাছে নিজেদেরকে নিবেদিত করে। এর ফলে মুসলমাদের মধ্যে সাম্যবাদ ও ভ্রাতৃত্ববোধের জাগরণ ঘটে এবং পারস্পরিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়। এ যেন সারা বিশ্বের মুসলমানদের এক অনন্য সুন্দর সম্মিলিত ঐকতান। এই ঐকতানে দূর হয়ে যায় সব অসাম্য, অনাচার আর পাপ। উদ্দীপকের সাদ্দাম হোসেন এই ঐকতানের সৌন্দর্যই অবলোকন করেছেন, যা হজের সামাজিক গুরুত্বকেই তুলে ধরে।
উদ্দীপকে ইসলাম ধর্মে বিভিন্ন মাজহাবের উদ্ভবের পেছনে ইসলামের প্রসার ও বিশ্বজনীন প্রেরণার দিকটিই কেবল উপস্থাপিত হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (স)-এর যুগে মুসলিমদের মধ্যে মতবিরোধের সুযোগ ছিল না, খুলাফায়ে রাশেদীনের স্বর্ণযুগেও কোনো মাজহাব জন্ম নেয়নি। কিন্তু এর পরবর্তী সময়ে ইসলামের প্রসারের পাশাপাশি আইন ব্যাখ্যাদাতার সংখ্যাধিক্য, কুরআন-হাদিসে বিভিন্নার্থক শব্দের ব্যবহার, হাদিসের ভিন্নতা, হুকুমের ধরন নিয়ে মতবিরোধ প্রভৃতি বিভিন্ন কারণে মাজহাবের উদ্ভব হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ইসলামের প্রসার এবং বিশ্বজনীন প্রেরণা বিভিন্ন মাজহাব তৈরির পথ সুগম করেছিল। তবে অন্যান্য কারণসমূহ এক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যেমন যুগ পরিক্রমায় আইন ব্যাখ্যাদাতার সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছিল। ফলে ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে পারস্পরিক পার্থক্য গড়ে উঠতে থাকে এবং বিভিন্ন মাজহাবের উদ্ভব হয়। আবার কুরআন-হাদিসে ব্যবহৃত বিভিন্নার্থক শব্দের ব্যাখ্যা নিয়ে মতবিরোধ বিভিন্ন মাজহাবের উদ্ভবের জন্য দায়ী। আবার একইভাবে একই বিষয়ে আপাতদৃষ্টিতে পরস্পরবিরোধী হুকুম সম্বলিত একাধিক হাদিস থাকার ফলে বিভিন্ন মাজহাব জন্ম নিয়েছে। তাছাড়া কুরআন হাদিসের হুকুম- আহকামের মধ্যে কোনটি আম আর কোনটি খাস তা নিয়ে মতবিরোধের কারণেও বিভিন্ন মাজহাবের উদ্ভবের পথ তৈরি হয়। কুরআন-হাদিসের অর্থ গ্রহণের দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য এবং মাসয়ালা রচনার নীতিগত তারতম্যও বিভিন্ন মাজহাব সৃষ্টির জন্য দায়ী।
বিভিন্ন মাজহাব সৃষ্টির ওপরের কারণগুলো উদ্দীপকের ইমাম সাহেব আলোচনা করেননি। তিনি কেবল ইসলামের প্রসার ও বিশ্বজনীন প্রেরণার দিকটিই মাজহাব সৃষ্টির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
Related Question
View Allযেসব ইবাদতের ওপর ইসলামের মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে রয়েছে তাই মৌলিক ইবাদত।
মহানবি (স) ইসলামের মৌলিক ইবাদত হিসেবে চার রকমের ইবাদতের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই, মুহাম্মদ (স) তাঁর বান্দা ও রাসুল, সালাত কায়েম করা, জাকাত আদায় করা, হজ করা ও রমজানের রোজা পালন করা। এ পাঁচটি ইবাদতের মধ্যে প্রথমটি আকিদাগত বিষয়। বাকি চারটি হলো আনুষ্ঠানিক ইবাদত। আর মৌলিক ইবাদত বলতে সাধারণত এ চারটি ইবাদতকেই বোঝায়।
জনাব মিরাজের এরূপ অস্বীকৃতি ইসলামের দৃষ্টিতে কুফর। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম সাওম। প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ, স্থায়ী অধিবাসী বা মুকিম এবং সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিম নারী, পুরুষের ওপর রমজান মাসের রোজা রাখা ফরজ। জনাব মিরাজের মধ্যে এই ফরজ ইবাদতটি অস্বীকারের দৃষ্টান্ত লক্ষ করা যায়। জনাব মিরাজ নিজেকে মুসলমান বলে দাবি করেন। কিন্তু ক্ষুধা সহ্য করতে না পারার কারণে তিনি রোজা পালন করতে রাজি নন। অথচ শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কারণ ছাড়া সাওম পালন না করা কবিরা গুনাহ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন- হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর সাওম পালন ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর (আল বাকারা-১৮৩)।
কুরআনের এ আয়াতের আলোকে বোঝা যায়, এটি অবশ্যপালনীয়। শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কারণে এটা পালন সম্ভব না হলেও পরে কাযা করতে হবে বা ফিদইয়া দিতে হবে। কেউ যদি ইসলামের এই ফরজ বিধানকে অস্বীকার করে তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে। জনাব মিরাজ ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত এবং বুনিয়াদি স্তম্ভ সাওম পালনে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাই তার মনোভাব কুফরির শামিল।
'আমি ক্ষুধা সহ্য করতে পারি না'- সাওম সম্পর্কে জনাব মিরাজের এরূপ মন্তব্য সম্পূর্ণরূপে শরিয়তসম্মত নয়। মানুষের অনন্ত ও স্থায়ী জীবন হলো পরকালীন জীবন। এই জীবনের সফলতাই প্রকৃত সফলতা। আর পরকালীন জীবনে সফলতার অন্যতম মাধ্যম হলো সাওম পালন করা। এ বিষয়টিই ইমাম সাহেবের মন্তব্যে পরিলক্ষিত হয়।
ইমাম সাহেব জনাব মিরাজের সাওম পালনে অস্বীকৃতির জবাবে বলেছেন, "হাশরের ময়দানে সাফল্য লাভ করতে হলে অন্যান্য মৌলিক ইবাদতের পাশাপাশি তোমাকে অবশ্যই সাওম পালন করতে হবে।” কথাটি অবশ্যই শরিয়তসম্মত এবং যৌক্তিক। এ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবার পর সব মানুষ কিয়ামতের ময়দানে একত্রিত হবে। সূর্য অত্যন্ত নিকটবর্তী হওয়ায় এর প্রচণ্ড তাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কোনো ছায়া থাকবে না। এমতাবস্থায় সাওম পালনকারীরা পাবে আরশের ছায়া। সেখানে তারা অত্যন্ত নিরাপদে থেকে বিচারের অপেক্ষায় থাকবে আর বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা বিশেষ সুবিধা পাবে। কারণ সাওম সেদিন মহান আল্লাহর কাছে তাদের মুক্তির জন্য সুপারিশ করবে এবং আল্লাহ সেই সুপারিশ কবুল করবেন। অবশ্যই এজন্য সাওম পালনের পাশাপাশি অন্যান্য ফরজ ইবাদতগুলোও পালন করতে হবে। এ প্রসঙ্গে মহানবি (স) ইরশাদ করেন, সাওম ও কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। সাওম বলবে, হে প্রভু! আমি তাকে দিনের বেলায় পানাহার ও যৌন কামনা থেকে বিরত রেখেছি। কাজেই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কুরআন বলবে, হে প্রভু! আমি তাকে রাতের বেলায় ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। কাজেই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। তখন তাদের উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে।
উপরের আলোচনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, ইসলামের দৃষ্টিতে জনাব মিরাজ সাহেবের এরূপ মন্তব্য যথার্থ নয়।
ইবাদত প্রধানত দুই প্রকার। যথা: হাক্কুল্লাহ এবং হাক্কুল ইবাদ।
হাক্কুল ইবাদ বলতে মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্যকে বোঝায়। মানুষ সামাজিক জীব। তাই সমাজবদ্ধ হয়েই তাদেরকে বসবাস করতে হয়। আমরা পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া- প্রতিবেশীদের নিয়ে সামাজিকভাবে এক সাথে বসবাস করি। একজনের দুঃখে অন্যজন সাড়া দিই। আপদে-বিপদে একে অপরকে সাহায্য-সহযোগিতা করি। পরস্পরের প্রতি এ সহানুভূতি ও দায়িত্বই হাক্কুল ইবাদ তথা বান্দার হক বা অধিকার।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!